ছোটদের কবিতা

একটি পাখি -তারিক ওয়ালি

একটি পাখি হাসতে জানে
একটি পাখি ভালো,
একটি পাখি বেজায় খুশি
মুখ ভরা তার আলো।
একটি পাখি ভীষণ দুখী
একটি পাখি কানা,
একটি পাখি শুধুই কাঁদে
ভাঙা যে তার ডানা।
একটি পাখি হাসি খুশি
কখন ও বা দুখি,
দুখের মাঝে সুখ আছে যার
সেই বড় সুখী।

প্রানের ভাষা-তারিক ওয়ালি

বাংলা আমার মাতৃভাষা
কান্না-হাসি মনের আশা,
মজুর-শ্রমিক মাঝি চাষা
আমার প্রানের বাংলা ভাষা।
হাসতে পারি বলতে পারি
গাইতে পারি গান,
রক্তে কেনা বাংলা ভাষা
আল্লাহ তা’লার দান।


আমার ইচ্ছেগুলো -খালিদ বিন আমিন

ইচ্ছে করে যাই ছুটে যাই দূরে বহু দূরে
ইচ্ছে করে কণ্ঠ মিলাই পাখির গানের সুরে।
ইচ্ছে করে পাখির মতো নীল আকাশে উড়ি
ইচ্ছে করে ঐ আকাশে দিই উড়িয়ে ঘুড়ি।
ইচ্ছে করে করে লাফিয়ে বেড়াই কাঠ বিড়ালির মতো
ইচ্ছে করে দিই পাড়ি দিই পাহাড় শত শত।
ইচ্ছে করে পথ হারিয়ে গহীনবনে ঢুকি
ইচ্ছে করে পাখির মতো ঝোপ ঝাড়ে দিই উকি।
ইচ্ছে করে স্রোতে ছুটি হয়ে নদীর পানি
ইচ্ছে করে স্বপ্নগুলো রঙিন করে আনি।



জোসনা রাত -রুনা নাজনীন

জোসনা রাতে ঐ আকাশে
মিষ্টি চাঁদের আলো,
মিষ্টি চাঁদের সেই আলো খুব
দেখতে লাগে ভালো।
চাঁদের আলোয় যায় ঘুমিয়ে
বনের বনের যতো গাছ,
আলোর সাথে করে খেলা
নদীর সকল মাছ।
উঠোনজুড়ে রুপকথা আর
গল্প বলার মেলা,
গল্প শোনার সেই মেলাতে
জোসনা করে খেলা।

সমালোচক – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাবা নাকি বই লেখে সব নিজে।
কিছুই বোঝা যায় না লেখেন কী যে!
সেদিন পড়ে শোনাচ্ছিলেন তোরে,
বুঝেছিলি? – বল্‌ মা, সত্যি করে।
এমন লেখায় তবে
বল্‌ দেখি কী হবে।।
তোর মুখে মা, যেমন কথা শুনি
তেমন কেন লেখেন নাকো উনি।
ঠাকুরমা কি বাবাকে কক্‌খনো
রাজার কথা শোনায় নিকো কোনো?
সে-সব কথাগুলি
গেছেন বুঝি ভুলি?
স্নান করতে বেলা হল দেখে
তুমি কেবল যাও, মা, ডেকে ডেকে –
খাবার নিয়ে তুমি বসেই থাকো,
সে কথা তাঁর মনেই থাকে নাকো।
করেন সারা বেলা
লেখা-লেখা খেলা।।
বাবার ঘরে আমি খেলতে গেলে
তুমি আমায় বল ‘দুষ্টু’ ছেলে!
বকো আমায় গোল করলে পরে,
‘দেখছিস নে লিখছে বাবা ঘরে!’
বল্‌ তো, সত্যি বল্‌ ,
লিখে কী হয় ফল।।
আমি যখন বাবার খাতা টেনে
লিখি বসে দোয়াত কলম এনে –
ক খ গ ঘ ঙ হ য ব র,
আমার বেলা কেন, মা, রাগ কর!
বাবা যখন লেখে
কথা কও না দেখে।।
বড়ো বড়ো রুল-কাটা কাগোজ
নষ্ট বাবা করেন না কি রোজ?
আমি যদি নৌকো করতে চাই
অম্‌নি বল ‘নষ্ট করতে নাই’।
সাদা কাগজে কালো
করলে বুঝি ভালো ?